বিতর্কিত সপ্তম শ্রেণির 'শরীফার গল্প' পরিমার্জনের বিষয়ে এনসিটিবি কর্মকর্তারা বলছেন, বিশেষজ্ঞ কমিটি শরীফার গল্প নিয়ে কোনো প্রতিবেদন দেয়নি। তারা প্রতিবেদন দিলে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় তা বিশ্লেষণ করে যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেটি চূড়ান্ত হবে। এরপর সংশোধনী পাঠানো হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। শরীফার গল্প নিয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বইয়ের সংশোধনী পাঠানোর প্রক্রিয়ায়ও ঝুলে আছে।
‘শরীফার গল্প’ রিভিউ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যরা। তারা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা দিতে আগ্রহী। তবে তা রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার শঙ্কায় মতামত দিতে গড়িমসি করছেন কমিটির কোনো কোনো সদস্য। তারপরও ঈদের পর একটি প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান এবং দুজন সদস্য।
কমিটির বিশেষজ্ঞ সদস্যদের মতে, শরীফ থেকে শরীফা হওয়ার গল্প নিয়ে আপত্তির জায়গাটি মূলত ধর্মীয়। আরও স্পষ্ট করে বললে, ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী এ গল্পে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই কমিটি গঠন। এজন্য কমিটিতে আহ্বায়কসহ ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তিনজনকে রেখেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কমিটিতে থাকা ইসলামিক স্কলার বা বিশেষজ্ঞরা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মতামত দেওয়ার পক্ষে। সেক্ষেত্রে ‘তৃতীয় লিঙ্গ (থার্ড জেন্ডার)’, ‘মেয়ের অবয়বে জন্ম নিয়েও মনে মনে নিজেকে ছেলে ভাবা’, ‘গুরু মা’, ‘শিশু ও নতুন বউকে আশীর্বাদ করে অর্থ আয়-রোজগার’ শব্দের ব্যবহার বাদ দেওয়ার সুপারিশ করবেন তারা। তাদের এ মতামত রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে আরও চিন্তা-ভাবনার জন্য সময় নিচ্ছেন তারা।